প্রকাশঃ Mon, Mar 23, 2020 1:21 AM
আপডেটঃ Thu, Jan 14, 2021 10:10 AM


আল্লাহর সাথে রাসুলুল্লাহ সাঃ এর সাক্ষাৎ

আল্লাহর সাথে রাসুলুল্লাহ সাঃ এর সাক্ষাৎ

শরীফ খান

নবুয়্যাতের মাত্র ১২ বছরের মাথায় আজকের এ রজনীতে মহান আল্লাহর ডাকে তার আরশে আজীমে সাক্ষাতে যান,  বিশ্ব মানবতার একমাত্র অভিভাবক, দু জাহানের রহমত প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সাঃ

তখন তাঁর বয়স ছিল ৫২ বছর।

 

শবে মেরাজ নিয়ে নানান প্রশ্ন, তাই প্রশ্নোত্তর আকারে ই শবে মিরাজ নিয়ে লিখার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা

 

২৬ শে রজব দিনশেষে রাত নামলো, ভ্রমন শুরু, ২ স্তরের ভ্রমন।

* কাবা থেকে বায়তুল মাকদাস।

* জেরুজালেম থেকে উর্ধ্বাকাশ।

দূই স্তরে দুই ধরনের বাহন, রফরফ ও বোরাক ( এই দুইয়ের উপর চিন্তা প্রসারিত করে পরবর্তীতে বিজ্ঞানের অনেক নব নব আবিষ্কার সাধিত হয়েছে।) 

মিরাজ যেহেতু (মিরাকল) বিস্ময়কর ঘটনা তাই এতে প্রশ্নও বেশী, সুতরাং প্রশ্নউত্তর আকারেই আজকের আলোচনাটা হয়ে যাক....

 

প্রশ্নঃ১

সরাসরি আকাশে না উঠিয়ে আল্লাহ তাকে কেন বাইতুল মাকদাসে ইসরা করালেন? 

উত্তরঃ এর কারণ আমরা বুঝতে পারি তখন, যখন দেখি মক্কার কাফির নেতৃবৃন্দ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কাবার সামনে জসসমক্ষে বাইতুল মাকদাস সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করেছিল। এবং নবী স. যে এক মাসের দূরত্বের সেই বাইতুল মাকদাসে ঠিকই ভ্রমণ করেছেন, তা কাফিররা যাচাই করতে পারল। এ অংশের ভ্রমণ ছিল কাফিরদের জ্ঞানসীমার মধ্যে। সরাসরি আসমানে ভ্রমণ করে আসলে কাফিরদের জ্ঞানে তা যাচাই করতে পারতো না। তাই আল্লাহ পাক সুরা বনী ইসরাইলের প্রথম আয়াতে ইসরা এর উল্লেখ করেছেন।

 

দ্বিতীয় অংশের ভ্রমণে প্রিয় নবী স. বাইতুল মাকদাস হতে জিবরাইল আ. এর সাথে পুনরায় বোরাকে চড়ে সেখান থেকে সাত আসমান তথা সিদরাতুল মুন্তাহা পাড়ি দিয়ে মহান আল্লাহর ডাকে হাজির হন।

 

২য় অংশ থেকে প্রশ্ন---

* মিরাজ কেন হয়েছে? (মহানবীর মুযিজা প্রমানার্থে)   *কি উপলক্ষ্যে হয়েছে?(উপহার দেওয়া উপলক্ষে)   *স্বপ্নযোগে নাকি সশরীরে হয়েছে? (অবশ্যই সশরীরে) 

 মহাশূন্য পাড়ি দেয়া কিভাবে মানুষের জন্য সম্ভব হল? এ সফরের ফলাফল বা সার্থকতা কী? মিরাজ থেকে পৃথিবীবাসীর শিক্ষণীয় কী? ইত্যাদি অগণিত প্রশ্ন এসেছে বিভিন্ন পর্যায়ের মুসলমান, ইহুদি খ্রিস্টান ও নাস্তিকদের কাছ হতে। 

 

বিজ্ঞান শুধু একটি প্রশ্ন নিয়েই ব্যাখ্যা বা আলোচনা করতেছে। আর তা হল মহাশূন্য- মহাকাশ পাড়ি দেয়া, আবার পৃথিবীতে ফিরে আসা মানুষের জন্য সম্ভব কিনা?

উত্তর১ ঃ বিজ্ঞানের উত্তর দিয়েছেন বিজ্ঞানী আইনস্টাইন আলোরগতি আবিষ্কার ও মহাকাশযান আবিষ্কার করে। প্রমান হয়েছে দ্রুতগতির যানবাহন হলে মর্ধ্যাকর্ষন শক্তি ভেদ করে মহাশুন্যে উঠা সম্ভব। আর বোরাকতো ছিল বিদ্যুৎ থেকেও দ্রুত গতির।

উত্তর২ঃ নাস্তিকদের জবাবে বলতে হয় এ প্রশ্নের উত্তর এর আগে আমাদের বুঝতে হবে এটা ছিল নবী মোহাম্মদ সাঃ এর মোযেজা। সুতরাং  মুযেজা কী ও বিজ্ঞান কী? মুযেজা শব্দের অর্থ হচ্ছে সকল শক্তি, সামর্থ্যকে অক্ষমকারী তথা পরাজিতকারী। যদি বিজ্ঞান পুরো মিরাজের ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম হয়, তাহলে সে আর পরাজয় বরণকারী হল কিভাবে? আল্লাহ মানুষকে যে সামান্য জ্ঞান বুদ্ধি দিয়েছেন, সেই বিবেক বুদ্ধির ফসল হচ্ছে বিজ্ঞান। বিজ্ঞানের  নিত্য নতুন তত্ত্ব-তথ্য আপডেট হতে থাকে।

 

উত্তর ৩ঃ কাফিরদের প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় যে, কোন খ্রিস্টান বৈজ্ঞানিক বাইবেলে উল্লেখিত ঈসা আ. এর এই মোযেজাকে অস্বীকার করবে? না এর কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে পারবে?

মোটকথা কস্মিনকালেও মোযেজার ব্যাখ্যা বিজ্ঞান দিয়ে হবে না। তবে এ কথা ধ্রুব সত্য যে বিজ্ঞান যতই উন্নত হচ্ছে এবং হবে কুরআনের সাথে ততই সমন্বয় হয়ে যাচ্ছে এবং হবে। বিজ্ঞান যতই তার সিদ্ধান্ত পাল্টিয়ে নতুন সত্য আবিষ্কার করছে, ততই কুরআনের সাথে তার বিরোধ নিষ্পত্তি হয়ে যাচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে তাই আমার বিজ্ঞানের আরো অগ্রগতি আশা করছি যে দিন কুরআন আর বিজ্ঞান প্রায় একাকার হয়ে যাবে। যেমনটা ইতোপূর্বে হাজারো বিষয়ে হয়ে গেছে।

উত্তর ৪ঃ কিছু মুসলমানদের প্রশ্নের জবাবে বলতে হয় যে, মিরাজ হয়েছে মহান আল্লাহ পাকের অসীম কুদরতে। তাহলে ব্যাখ্যাটি হয়ে দাঁড়ায় ঈমানভিত্তিক, বিজ্ঞানভিত্তিক নয়। আর মুমিন মাত্রই মহান আল্লাহর কুদরত বিশ্বাস করেন। মহান আল্লাহ তো যা খুশি তা-ই করতে পারেন, ঘটাতে পারেন। তিনি ‘কুন ফাইয়াকুন’ এর মালিক। তার কাছে অসাধ্য কিছুই নেই।

তাই বলা যায় একজন আস্তিক ব্যক্তি যেমন নিরাকার আল্লাহ কে চিনতে  কোন যুক্তির খোজ করেনা তেমনি আল্লাহ ও তার রাসুল সাঃ এর মিরাজ বিশ্বাস করতেও কোন যুক্তির প্রয়োজন নেই। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের জন্যে মিরাজের যথার্থতা উপলব্ধি করে মিরাজের উপহার আল্লাহ প্রদত্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করার তাওফিক দান করুক, আমীন।



www.a2sys.co

আরো পড়ুন