প্রকাশঃ Thu, Apr 15, 2021 12:09 AM
আপডেটঃ Fri, May 7, 2021 12:37 AM


কোভিড ১৯ এর কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়নি বাংলা সনের প্রথম দিন

কোভিড ১৯ এর কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়নি বাংলা সনের প্রথম দিন

রিতেষ কুমার বৈষ্ণবঃ আজ পহেলা বৈশাখ২০২৮ বাংলা। বাংলা সনের প্রথম দিন। এ দিনটি অন্যান্য বছর আনুষ্ঠানিক ভাবে  বাংলাদেশে নববর্ষ হিসেবে পালিত হলেও গত বছর এবং এই বছরে কোভিড ২১ এর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় নেই কোন আনুমানিকতা। এটি বাঙালির একটি সার্বজনীন  লোকউৎসব হিসেবে স্বীকৃত । এদিন আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয় নতুন বছরকে। বাঙালিরা এই দিনটিকে  কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক মনে করে বুকে লালন করে আসছে বহু বছর ধরে। 





অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদ্যাপিত হয় নববর্ষ। এইদিন সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে।এক সময় নববর্ষ পালিত হতো  ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে। 


তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ হচ্ছে  তখন  কৃষিকাজ ছিল ঋতুনির্ভর।


এই কৃষিকাজের সুবিধার্থেই মুগল সম্রাট  আকবর ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০/১১ মার্চ বাংলা সন প্রবর্তন করেন এবং তা কার্যকর হয় তাঁর সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে (৫ নভেম্বর ১৫৫৬)। নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা  বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।


সে সময় বাংলার কৃষকরা চৈত্রমাসের শেষদিন পর্যন্ত জমিদারী, তালুকদারী খাজনা পরিশোধ করত। 

পরদিন খাজনা আদায় কারী গনকে তাদের পক্ষ থেকে মিষ্টিমুখ করাতেন। এ উপলক্ষে তখন মেলা এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন ও করা হতো। ক্রমান্বয়ে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে পহেলা বৈশাখ আনন্দময় ও উৎসবমুখী হয়ে ওঠে এবং বাংলা নববর্ষ শুভদিন হিসেবে পালিত হতে থাকে। 


অতীতে বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব ছিল  হালখাতা। এটি পুরোটাই একটি অর্থনৈতিক ব্যাপার। 



গ্রামে-গঞ্জে-নগরে ব্যবসায়ীরা নববর্ষের প্রারম্ভে তাঁদের পুরানো হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করে হিসাবের নতুন খাতা খুলতেন। এ উপলক্ষে তাঁরা নতুন-পুরাতন খদ্দেরদের আমন্ত্রণ জানিয়ে মিষ্টি বিতরণ করতেন এবং নতুনভাবে তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগসূত্র স্থাপন করতেন। চিরাচরিত এ অনুষ্ঠানটি এখনো বাঙালির সংস্কৃতিতে চলমান রয়েছে।



www.a2sys.co

আরো পড়ুন