প্রকাশঃ Fri, Apr 30, 2021 12:45 PM
আপডেটঃ Thu, May 6, 2021 10:10 PM


মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন ঝর্ণা

মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন ঝর্ণা
রিসোর্টকাণ্ডের পর থেকে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সামনে আসছে সাবেক হেফাজত নেতা মামুনুল হকের। তার বিরুদ্ধে হচ্ছে একের পর এক মামলা। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা। বিয়ের আশ্বাসে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এই মামলা করেন তিনি।







মামলার এজাহারে মামুনুলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন ঝর্ণা। তিনি উল্লেখ করেছেন, তার প্রথম স্বামী মাওলানা শহীদুল ইসলামের সঙ্গে সংসার ভাঙার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন মামুনুল। তাদের দাম্পত্য জীবন বিষিয়ে তুলেছিলেন তিনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিয়ের আশ্বাসে মামুনুল আমার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে। কিন্তু বিয়ের কথা বললে কালক্ষেপণ করতে থাকে মামুনুল। ২০১৮ সাল থেকে ঘোরাঘুরির কথা বলে মামুনুল বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্টে আমাকে নিয়ে যান।

ঝর্ণা বলেন, ২০০৫ সালে মামুনুলের সঙ্গে তার পরিচয়। শহীদুলের মাধ্যমেই এই পরিচয়। স্বামীর বন্ধু হওয়ায় তাদের বাড়িতে মামুনুলের ছিল অবাধ যাতায়াত। মামুনুল আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মতানৈক্যের মধ্যে প্রবেশ করে দূরত্ব তৈরি করতে থাকেন এবং আমাদের দাম্পত্য জীবন চরমভাবে বিষিয়ে তোলেন। সাংসারিক এই টানাপোড়েনে একপর্যায়ে মামুনুলের পরামর্শে আমাদের তালাক হয়।




রয়্যাল রিসোর্টকাণ্ডের বিষয়ে ঝর্ণা বলেন, ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে ঘোরাঘুরির কথা বলে মামুনুল হক নিয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে কিছু মানুষ আমাদের আটক করে ফেলে। পরে মামুনুল হকের অনুসারীরা রিসোর্টে হামলা করে আমাদের নিয়ে যায়। রিসোর্টকাণ্ডের পর পরিচিতজনের বাসায় জোরপূর্বক আটকে রাখেন মামুনুল, যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি বাবা-মাসহ কারও সঙ্গে।

তিনি বলেন, পুলিশ আমাকে উদ্ধারের পর বাবার জিম্মায় দেয়। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করায় অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হয়।
এর আগে গত ১১ এপ্রিল ঝর্ণার বড় ছেলে আব্দুর রহমান জামি রাজধানীর পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এ ছাড়া ২৬ এপ্রিল ঝর্ণার বাবা মেয়েকে উদ্ধারের জন্য কলাবাগান থানায় আরেকটি জিডি করেন। 
জিডিতে ঝর্ণার বাবার অভিযোগ, মামুনুল হক ঝর্ণার সুখের প্রথম সংসার ভেঙে দিয়েছে। সেই সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। একপর্যায়ে জীবনের তাগিদে কাজের সন্ধানে ঝর্ণা ঢাকায় এসে উত্তর ধানমন্ডির একটি বাসায় উঠে।




জিডিতে আরও বলা হয়, গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ঘটনার পর তিনি জানতে পারেন যে, তার মেয়েকে ইসলামি শরিয়তের বিধান মোতাবেক বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন মামুনুল হক।


ওই ঘটনার পর তিনি তার মেয়ের ঢাকার ঠিকানায় এসে মেয়েকে না পাওয়ায় মনে করেন মামুনুল হকের লোকজন তার মেয়েকে অপকৌশল করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখেছেন।





ঝর্ণার বাবা জিডিতে আরও বলেন, জিডি করার দুদিন আগে ঝর্ণা ফোন করে তার ছেলেকে জানান, তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন। তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার করতে বলা হয়। এ ছাড়া যে কোনো সময় তাকে মেরে ফেলা হতে পারেও বলে জানান।
আবেদনের প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল জান্নাত আরা ঝর্ণার অবস্থান জানার চেষ্টা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় ঝর্ণাকে আটকে রাখা হয়েছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।




আকাশ টিভি


www.a2sys.co

আরো পড়ুন