প্রকাশঃ Mon, May 3, 2021 12:18 AM
আপডেটঃ Thu, May 6, 2021 11:05 PM


মুনিয়ার প্রেমের যত অজানা কাহিনী

মুনিয়ার প্রেমের যত অজানা কাহিনী

সম্প্রতি সারা দেশে আলোচিত হচ্ছে মুনিয়ার মৃত্যুকে ঘিরে নানা সমালোচনা। কেউ বলছেন আত্মহত্যা, কেউ বলছেন হত্যা আবার কেউ কেউ বলছেন উচ্চাভিলাষী তরুণীর বিপথে যাওয়ার ঘটনায় অপমৃত্যু। আবার কেউ কেউ দাবি করছেন, দেশের বৃহৎ শিল্পপতিদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের শিকার হয়ে টোপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন কুমিল্লার মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধার কলেজপড়ুয়া কন্যা মুনিয়া।






তবে মুনিয়ার শোবিজে আসা ও মৃত্যুকে নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে। সেখানে কুমিল্লায় অবস্থানকালে মুনিয়ার ব্যক্তিগত জীবনে নানা অনৈতিক কাজ ও ঢাকায় আসার পরে দালালদের খপ্পড়ে পড়ে বিলাসী জীবনযাপনের নানা প্রমাণ রয়েছে। 



জানা গেছে, কুমিল্লায় নবম শ্রেণীতে পাঠরত অবস্থাতেই মোসারাত জাহান মুনিয়া পাশের গ্রামের নিলয় নামের এক যুবকের গলায় ঝুলে পড়েছিলেন। বিবাহিত দুই সন্তানের জনক নিলয়ের হাত ধরে বাড়ি ছেড়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন, শুরু করেছিলেন দাম্পত্য জীবন। কিন্তু মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় নিলয়কে আসামি করে নারী নির্যাতন সংক্রান্ত মামলা রুজু করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার অপ্রাপ্ত বয়স্ক বোনকে ফুসলিয়ে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে তার সম্ভ্রম লুটসহ জানমালের ভয়াবহ ক্ষতি করা হয়েছে। অবিলম্বে নিলয়কে গ্রেফতারপূর্বক মুনিয়াকে উদ্ধারকল্পে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণর জোর আরজি জানান তিনি।



দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পরে কুমিল্লার পুলিশ ফেনীতে নিলয়ের এক আত্মীয় বাড়িতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে আনে মুনিয়াকে। কিন্তু ততদিনে মুনিয়া-নিলয় রীতিমতো বিয়েশাদি করে ঘরসংসার শুরু করে দিয়েছিল। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় গ্রাম্য বৈঠকে মোটা অঙ্কের জরিমানা আদায়ের মাধ্যমে নিলয়-মুনিয়ার বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটানো হয় এবং যে যার পরিবারে ফিরে যায়।



নিলয়ের সঙ্গে পলায়নপর থাকাবস্থায় বেশ কিছুদিন রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় নিলয়ের বন্ধু হিরুর আশ্রয়ে অবস্থান করতে হয়েছিল মুনিয়াদের। তার মাধ্যমেই এফডিসিতে আসা-যাওয়া, শুটিং, আড্ডাবাজি, নাচ, গান ফুর্তির সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠে মুনিয়া। এবার সে শোবিজের প্রতি উৎসাহী হয়ে ওঠে। কিন্তু এর মাঝেই বোনের অপহরণ মামলায় পুলিশি তৎপরতায় কোথাও পালিয়ে থাকার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষমেশ নিলয়ের আত্মীয়র বাড়ি ফেনীর পল্লীতে গিয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করে তারা।



নিলয়ের সঙ্গে প্রেম বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর দুই বছর বড় বোনের কাছে থেকে পড়াশোনা চালালেও এসএসসি পরীক্ষা দিয়েই মুনিয়া পাড়ি জমিয়েছিলেন ঢাকার উদ্দেশ্যে। নিলয়ের হাত ধরে পরিচিত হিরু মিয়ার মাধ্যমে শোবিজ জগতে ওঠাবসা শুরু হয় তার। আর পেছনে তাকাতে হয়নি মুনিয়ার। এরপর পোশাক বদলের মতোই একের পর এক প্রেমিক বদলে মুনিয়া হয়েছে অভিজাত, বোন ভগ্নিপতিকে বানিয়েছে ধনাঢ্য। পিয়াসা সিন্ডিকেটের সদস্য মোসারাত জাহান মুনিয়া হয়ে উঠছিলেন আরেক পাপিয়া? তার একটার পর একটা প্রেম আর একের পর এক হাত বদলের মাধ্যমে নিজের আখের গোছানোর ঘটনায় এমন প্রশ্নই উঠে এসেছে জনমনে।


পোশাক পাল্টানোর মতো একটার পর একটা প্রেমিক পাল্টানোর মাধ্যমে মুনিয়া যেমন আভিজাত্যের শীর্ষে পৌঁছেছিলেন, তেমনি নিজের বোন-ভগ্নিপতিকেও ধনাঢ্য করতে সক্ষম হয়েছিলেন।


বাবা-মা মৃত্যুর পর এই বোন-ভগ্নিপতিই ছিল তার একমাত্র অভিভাবক। কিন্তু দুহাতে অঢেল টাকা কামানোর ধান্ধায়, অর্থবিত্তের লোভে মুনিয়ার জীবন কোথায় পৌঁছে যাচ্ছে সে খবর নেয়ার কোনো দরকারই তারা মনে করেননি বরং ছোট বোনকে যথেচ্ছা চলাচল, যার সঙ্গে খুশি দিন-রাত যাপনের অবাধ স্বাধীনতা দিয়ে বোন-ভগ্নিপতি হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। মুনিয়ার ফ্ল্যাট থেকে ৫০ লাখ টাকা খোয়া যাওয়ার যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে কথিত অডিও রেকর্ডে, এ টাকাও মুনিয়ার হাত ঘুরে তার বোন-ভগ্নিপতির ঘরে পৌঁছেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।




রাজধানীর গুলশানের অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয় মুনিয়া। কুমিল্লার একটি সাধারণ পরিবারের মেয়ে মোসারাত জাহান মুনিয়া। তার পুরো পরিবার কুমিল্লায় থাকলেও ২০১৭ সাল থেকেই ঢাকায় একাকী থাকছেন তিনি। এসএসসি পাসের পর থেকেই মুনিয়ার স্বপ্ন ছিল সিনেমায় কাজ করার। এক প্রযোজকের হাত ধরে পরিচয় হয়েছিল ঢাকাই সিনেমার এক নায়কের সঙ্গে। তার সঙ্গে অল্প কিছুদিন লিভ টুগেদারের পর তার আকাশ-কুসুম স্বপ্নজাল হঠাৎ ছিন্ন হয়। সেই অভিনেতার সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্কে ছেদ পড়তেই বেসামাল হয়ে পড়েন তিনি।


একপর্যায়ে অভিনেতা বাপ্পী রাজের সঙ্গে পরিচয় হয় মুনিয়ার। পরিচয় থেকে গভীর প্রেম। বাপ্পীর মিরপুরের বাসায় নিয়মিত একান্তে দেখা হতো তাদের। ওই বাসাতেই শোবিজের অনেকের সঙ্গেই আড্ডায় মেতে উঠতেন তারা। সেখানেই তাদের গ্রুপভিত্তিক নানারকম সম্পর্কের মজাদার সব কাহিনী ছড়িয়ে আছে শোবিজের অন্দরে-বাহিরে। একদিন দেখা গেল প্রেমিকা মুনিয়া বিয়ের দাবিতে বাপ্পীর বাসায় গিয়ে ধরনা ধরে। সেখানে টানা দুই দিন অবস্থানের পর আত্মহত্যা করারও চেষ্টা করে সে। পরে বাপ্পী রাজের বন্ধুবান্ধবীরা বুঝিয়ে-শুনিয়ে মুনিয়াকে বাপ্পী রাজের বাসা থেকে বের করে নিয়ে যান।



জানা যায়, এরপর থেকেই অভিনেতা বাপ্পী রাজের কাছ থেকে উধাও হয়ে যায় মুনিয়া। তারপর এক সঙ্গীত শিল্পীর সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠলেও মুনিয়া যোগ দেয় পিয়াসা সিন্ডিকেটে।



তবে মুনিয়ার অতীত টেনে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি আনভীরকে বাচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করেন বুদ্ধিজীবি মহল।



কবি আল মাহমুদ স্মৃতি সংসদের সভাপতি শরীফ খান বলেন, মুনিয়ার অতীত খারাপ হোক আর ভাল হোক। কাউকে হত্যা করা কোন সমাধান নয়। অতীত জেনেই তো মুনিয়ার সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছিল বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি আনভীর



www.a2sys.co

আরো পড়ুন