প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 9, 2026 ইং
ভিক্টোরিয়ার ক্যাম্পাসে অবৈধ অস্বাস্থ্যকর খাবারের দোকান, প্রশ্ন করায় রেগে গেলেন অধ্যক্ষ

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি.
খোলা আকাশের নিচে বসছে খাবারের দোকান। কোন স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই প্রস্তুত করা হচ্ছে খাবার। আর সেই খাবার খেয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এদিকে এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতেই সাংবাদিকদের সঙ্গে রেগে কল কেটে দেন কলেজটির অধ্যক্ষ আবুল বাসার ভূঞা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রশাসনিক ভবনের সামনে ও কলাভবনের কর্নারে প্রতিনিয়ত বসছে ১০টির বেশি দোকান। সেখানে আড্ডায় মেতে উঠছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া রসায়ন বিভাগসংলগ্ন এলাকায় যত্রতত্র খাবারের দোকান ও ফুটপাত বসানো হয়েছে। এসব দোকানে ফুচকা, ঝালমুড়ি, লেবুর শরবতসহ বিভিন্ন খোলা খাবার বিক্রি করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এসব দোকানে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি হলেও নেই কার্যকর কোনো তদারকি। কলেজে মানসম্মত ক্যান্টিন না থাকায় বাধ্য হয়ে এসব খাবার গ্রহণ করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর এই শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত ক্যান্টিন না থাকায় খাবার নিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অন্তত ১০ জন নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, খোলা খাবারে দূষিত পানি, বরফ, অপরিষ্কার হাত ও বাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষতিকর জীবাণু ছড়াতে পারে। দূষিত খাবার গ্রহণে ডায়রিয়া, খাদ্যজনিত অসুস্থতা, আমাশয়, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদ হোসেন বলেন, কলেজ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া তো দোকানপাট বসতে পারে না। আমাদের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরিবেশ কলেজ প্রশাসনই করে দিয়েছে। এতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের নিশ্চয়তা চাই।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুনিয়া সুলতানা বলেন, কলেজে ক্যান্টিন নেই, মানসম্মত খাবারও নেই। আমরা কোথায় গিয়ে খাব? এসব খাবার খাওয়া ছাড়া তো বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করে দেয়নি কলেজ প্রশাসন।
এদিকে নাম প্রকাশ না করে দীর্ঘদিন কলেজে শিক্ষকতা করা কয়েকজন শিক্ষক জানান, মৌখিক অনুমতিতেই তারা বসার সুযোগ পেয়েছে। এটি কলেজের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। একজন শিক্ষক কিভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য এসব খাবার উন্মুক্ত করে দেন সেটি বোধগম্য নয়।
দোকানপাট বসার বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ আবুল বাশার ভূঁঞা বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা একটু আমরা হয়তো বা... তারপরেও আমরা গেটে নিষেধ করেছি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, তুমি কি মনে করো? আমাকে জিজ্ঞেস করতেছো এটা? প্রিন্সিপালের কি এটা বাপের জায়গা? তোমরা তাদের জিজ্ঞেস করো, প্রিন্সিপাল কি জায়গা দিতে পারে?
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আকাশ টিভি ২৪ ডট কম