
কুমিল্লা জেলার বি-পাড়া উপজেলার শশিদল ইউনিয়নের সাজঘর উত্তর পাড়া গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ৩ তারিখ (শুক্রবার) রাত প্রায় ১১টার সময় সেই মসজিদের ইমামকে ছুরিকাঘাত (খুর) করে মুসুল্লি আল আমিন (২২)
হামলাকারী আল আমিন মসজিদের পার্শ্ববর্তী বাড়ির মোক্তার হোসেনের ছেলে। সে ঢাকায় সেলুনে কাজ করত। বর্তমানে বাড়িতে বেকার।
ইমাম হাফেজ মো.শাহাদাত হোসেন বি-পাড়া উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের উত্তর চান্দলা গ্রামের আব্দুল মতিন মিয়ার ছেলে। সে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে অনার্সে অধ্যয়নরত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি মো.আবুল হোসেন জানান, পরশু রাতে (৩ ফেব্রুয়ারী রাত ১১টায়) হুজুরের কাছে টাকা হাওলাত চায় আমার ভাতিজা আল আমিন। তখন হুজুর তাকে ১০০০ টাকা দেয়। পরে সে হুজুরের সাথে রাতে থাকতে চায় তখন হুজুর নিষেধ করে দরজা বন্ধ করতে গেলেই সে হুজুরের গলায় সেলুনের খুর দিয়ে আঘাত করে দৌড়ে পালায়। কি কারনে সে এ কাজ করল আমরা জানি না। তবে হুজুরের সাথে কারো কোন দ্বন্দ নেই। সবাই হুজুরের ভক্ত।
একই এলাকার মুসুল্লি মো.জিবন মিয়া বলেন,হুজুর আমাদের এলাকায় আজকে ৬ বছর যাবত ইমামতি করে। কারো সাথে কোন ঝগড়া বা দ্বন্দ নেই। এলাকার সবাই হুজুরকে পছন্দ করে। সবাই হুজুরকে এত বেশি বিশ্বাস করে যে,নিজের ঘরে টাকা না রেখে হুজুরের কাছে জমা রাখে। আমার টাকাও হুজুরের কাছে রাখি। হুজুর খুব ভাল মানুষ। হুজুরের কাছে থাকা টাকা ছিনতাইয়ের জন্য হুজুরের সাথে থাকতে চেয়েছিল। হুজুর না করায় আঘাত করেছে বলে আমার ধারনা হয়।
আহত ইমাম হাফেজ শাহাদাত বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বি-পাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইমামের বাবা বাদী হয়ে গতকাল হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন। আজ আমরা আসামিকে গ্রেফতার করেছি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানাতে পারব।