প্রকাশঃ Fri, Nov 17, 2023 3:30 PM
আপডেটঃ Sun, Jun 9, 2024 10:05 AM


অ্যালেন শামীম গ্রেপ্তার

অ্যালেন শামীম গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক সম্রাট আজিজুল হক শামীম ওরপে অ্যালেন শামীমকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।


এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় চট্টগ্রাম শহরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড উত্তর ঘাটচেক এলাকার মৃত ফয়েজ আহমেদের ছেলে।



গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, শামীম এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। গত মঙ্গলবার র‍্যাব-৭ পারুয়া এলাকায় অস্ত্র এবং মাদক উদ্ধার কালে উক্ত শামীম পালিয়ে যায় এবং ঘটনার পর থেকে তিনি বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে থাকার চেষ্টা করেন। চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করি। তার বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া থানায় অস্ত্র, মাদক ও মারামারির ঘটনার মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।



জানা যায়, (১৪ নভেম্বর দুপুরে অ্যালেন শামীমের আস্তানায় র‌্যাব হানা দিয়ে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ মাদকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা হয় তার আস্তনা নিয়ন্ত্রণ কাজে ব্যবহৃত সিসিটিভি ক্যামরাসহ বিভিন্ন ডিভাইস। অভিযানকালে অ্যালেন শামীম পালিয়ে যায়। এরপর রাতের আঁধারে স্থানীয় বেশকিছু মানুষের খড়ের গাদা পুড়িয়ে দেয় শামীম। বুধবার (১৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘাটচেক এলাকায় এসে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা বশির আহমদের সন্তান আবু বক্কর সিদ্দিক দিদারসহ দুজনকে বেধড়ক মেরে রক্তান্ত করেন তিনি। এ ছাড়া ওইদিন রাতেই পারুয়া এলাকার আরও তিনজনকে বেধড়ক মেরে রক্তাক্ত করে। আহতরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


সূত্রে আরও জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর অ্যালেন শামীমকে মাদক মামলায় এবং মারামারির ঘটনায় রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ প্রথম গ্রেপ্তার করেছিল। এরপর গ্রেপ্তারের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে জামিনে এসে আরও বেপরোয়া সন্ত্রাসী ও মাদক কারবার শুরু করে। তার বেপরোয়া এসব কর্মকাণ্ডে অতিষ্ট হয়ে ওঠে এলাকাবাসী। বছর দেড়েক আগে উপজেলা যুবলীগের এক নেতার উপর প্রকাশ্যে হামলা চালানোর পর থেকে প্রথম আলোচনায় আসে সে। এরপর পোমরা ইউনিয়নের গোচরা বাজারে কাপ্তাই সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে দিনদুপুরে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে হামলা চালালে তা চট্টগ্রামব্যাপী আলোচিত হয়। তার নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ঘাটচেক কেন্দ্রীক এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতো। যার হেডকোয়ার্টার হিসেবে তিনি পারুয়া ইউনিয়নের কোকানিয়া পাহাড়ি জনপদকেই বেঁছে নিয়েছে শামীম। আস্তানায় স্থাপিত অত্যাধুনিক সিসিটিভির সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা হতো আস্তানার মাদক কারবার। র‍্যাবের অভিযানের পর তার এসব চিত্র ওঠে এলে সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। র‍্যাবের অভিযানের পরও তার এসব কর্মকাণ্ডে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সে গ্রেপ্তার হলেও তার সহযোগীদের কারণে এলাকার মানুষের আতঙ্ক কাটেনি। তাদেরও গ্রেপ্তার করে এই চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এলাকার নিরীহ জনসাধারণ।



www.a2sys.co

আরো পড়ুন