মহিউদ্দিন আকাশ.
কুমিল্লায় বিল্লাল নামে এক প্রবাসীকে অপহরণের অভিযোগে ৫ যুবক গ্রেপ্তার । এরআগে গত শুক্রবার রাতে বিল্লাল হোসেনকে অপহরণের সময় উপজেলার বাগুর স্টেশন এলাকা থেকে ওই ৫ যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেনের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দইয়ারা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। বিল্লাল কুয়েত প্রবাসী। ছুটিতে দেশে এসেছেন।পরিবার নিয়ে চান্দিনা পৌর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
অভিযুক্ত ৫ যুবক হলেন- দাউদকান্দি উপজেলার খোশকান্দি গ্রামের আবুল কালামের ছেলে আমির হামজা, একই উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে মাসুদ রানা, মুরাদনগর উপজেলার দইয়ার গ্রামের আবুল বাসারের ছেলে জুয়েল রানা, একই গ্রামের ইউনুস মুন্সির ছেলে ইউসুফ এবং দেবিদ্বার উপজেলার গাঙ্গচর গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে তানভীর আহামেদ।
দেবিদ্বার থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সুত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেনের বাড়িঘরে হামলা এবং তার ভাই ও বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগে মুরাদনগর থানায় একটি মামলা করা হয়। ওই মামলার জের ধরে বিল্লালকে অপহরণের উদ্দেশ্যে বাগুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকাগামী মহাসড়কে একটি গাড়ির পেছনের ডালায় তুলে ফেলে। এ সময় অভিযুক্তরা বিল্লালকে মারধর করেন। পরে তাদের সাথে বিল্লালের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা বিল্লালকে ‘মোবাইল চোর’ বলে চিৎকার করে এবং তাকে মারধর করতে থাকেন। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ সবাইকে থানায় নিয়ে যায়। এই ৫জন ছাড়াও আরো ৭-৮ যুবক ছিলো অপহরণের ঘটনায় যুক্ত ছিলেন। তাদের আটক করা যায়নি।
ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘পূর্বের একটি ঘটনার জেরে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্য দীর্ঘদিন ধরেই তারা আমাকে অপহরণের চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা আমাকে মেরে ফেলবে ঘোষণা করেছে। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।’
ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেনের পরিবার জানায়, পূর্বশত্রুতার জের ধরে বাবুটিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ইউনুস ও বর্তমান সদস্য আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয় এবং আমাদের মারধর করা হয়। এ ঘটনায় বিল্লাল কয়েক দিন আগে মুরাদনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পর থেকেই বিল্লালকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এছাড়াও শুক্রবার রাতে বিল্লালের মাছের প্রজেক্টে বিষ প্রয়োগ করে মাছগুলো মেরে ফেলা হয়েছে।
দেবিদ্বার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন ‘ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেনের করা মামলায় অপহরণকারী ৫ জনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’