মীর মো. সোহেল।।
কুমিল্লায় ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষের নবীনবরণ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানের মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি, অনার্স প্রথম বর্ষের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। এ উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাসকে বর্ণিল সাঝে সাজানো হয়। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই নবীনদের পদচারণায় মুখর হয় অনুষ্ঠানস্থল।
শুরুতেই ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয় ।এ সময় গানে গানে নবীনদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন সিনিয়র শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। অধ্যক্ষ মো. শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক মো. আবু জাহেদের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মনিরুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি জনাব সাহারীয়ার আক্তার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, একটি জাতিকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে দরকার দক্ষ ও সুশিক্ষিত নাগরিক। অন্যথায় দেশ পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা থাকে। এ বিষয়টি উপলব্ধি করেই নতুন প্রজন্মকে আধুনিক ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে তুলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন আগামীতে তারুণ্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। তাই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সেভাবে প্রস্তুত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।বলেন বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল।ক্যাম্পাসে অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিলো নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার।তবে বর্তমানে সে পরিবেশ নেই।সরকার শিক্ষাথাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে মেয়েদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন।আর তারই যোগ্য উত্তরসূরী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্নাতক পর্যন্ত সে সুযোগ চালু করেছেন।তিনি সুশিক্ষা অর্জন করে আগামী দিনে দেশ গড়ার প্রস্তুতি নিতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এলাকাবাসী ও শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই কলেজকে জাতীয়করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সাথে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দেন। কলেজের সার্বিক বিষয় পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার জন্য এসে সেবার জন্য বেরিয়ে যেতে হবে। কারণ অপরের প্রতি প্রীতি ও সৌহার্দ্যতা না থাকলে মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ সৃষ্টি হয় না। তাই শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে দেশ মাতৃকার কাজে আত্মনিয়োগ করতে হিবে। অন্যথায় শিক্ষা কোনো কাজে আসবে না বলে তিনি মনে করেন।
শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন উপাধ্যক্ষ মো. মোস্তাক আহমেদ। তিনি বলেন পাঠে মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি সন্ত্রাস ও মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। তিনি ছাত্র-শিক্ষকের সেতুবন্ধন আরও জোরালো করার তাগিদ দেন। আরো বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের পক্ষে অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অনার্স শাখার কো-অর্ডিনেটর সহকারী অধ্যাপক দিল আরা আফরোজ। আরো উপস্থিত ছিলেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্যবৃন্দ ও কলেজের সাবেক নির্বাচিত সকল ভিপি, জিএসসহ শিক্ষার্থীরা। আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপির) বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে শিক্ষার্থীরা উপভোগ করে।