নিজস্ব প্রতিবেদক.
সৌদি আরবে নিহত ওমরাহযাত্রী মুফতি নাসরুল্লাহ বদরপুরির পরিবারের দায়িত্ব নিলেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এমপি। আহত যাত্রীদের সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ধর্মমন্ত্রী।
গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সৌদি আরব রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি একজন ওমরাহযাত্রীসহ ২ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও ২৪ জন আহত হয়। নিহত ওমরাহযাত্রী মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি (৪৫) কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বাসিন্দা। তিনি একজন মুফতি এবং ওমরাহ কাফেলার নেতা (ইমাম) ছিলেন। এহরাম পরা অবস্থায় বিমানে উঠার ঠিক আগমুহূর্তে তিনিসহ ওমরাহ কাফেলাটি হামলার শিকার হন।
হামলার ঘটনা জানার সাথে সাথে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) আক্রান্ত ওমরাহ কাফেলার সাথে যোগাযোগ করেন এবং সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাগণের সাথে যোগাযোগ করেন। আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ নেন। তিনি তখন সিংগাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৌদিতে আক্রান্ত ওমরাহ দলের সার্বিক খোঁজ খবর নিয়েছেন। তিনি তার ব্যক্তিগত তহবিল হতে তাদেরকে আপ্যায়ন করাসহ তাদের পরিধানের পোশাকের ব্যবস্থা করেন। তিনি নিহত ওমরাহযাত্রীর পরিবারের খোঁজ খবর নিয়েছেন।
ধর্মমন্ত্রীর পক্ষ হতে গত ১৩ অক্টোবর মাওলানা ইয়াকুব ওসমানীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শহীদ নাসরুল্লাহর বাড়ি নাঙ্গলকোটের বদরপুরে যান।
শহীদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর মরদেহ দাফন, পরিবারের স্থায়ী আবাসন এবং সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
পরিবারের সাথে ফোনালাপে তিনি শহীদদের মরদেহ জান্নাতুল বাকিতে দাফন কিংবা দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তিনি শহীদ মুফতী নাসরুল্লাহ (রহ.)-এর পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
রিয়াদে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উমরাহযাত্রীদের ঢাকায় প্রত্যাবর্তন
সৌদি আরবের রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার শিকার ৪৫ সদস্যের বাংলাদেশি উমরাহ কাফেলার ৩৩ জন দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমানে তাঁরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করলে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)-এর নির্দেশনায় তাঁর একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ ও পরিচালক (হজ) মো. লোকমান হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে উমরাহযাত্রীদের বরণ করে নেন।
বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীর একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ বলেন, " সৌদি আরবে আটকে পড়া উমরাহযাত্রীদের অভ্যর্থনা জানাতে মন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা বিমানবন্দরে এসেছি। ধর্মমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে ফিরে আসা যাত্রীদের নৈশভোজের ব্যবস্থা করেছেন। সবাইকে নিরাপদে নিজ নিজ মাদ্রাসা ও বাসায় পৌঁছে দিতে পরিবহনেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়েও প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা মন্ত্রী অব্যাহত রাখবেন এবং প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় সবকিছু করবেন।"
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৪৫ সদস্যের একটি উমরাহ কাফেলা রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার শিকার হয়। এতে কাফেলার দলনেতা ও জামেয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষাসচিব নিহত হন। আহত আরও ৭ জন উমরাহযাত্রী বর্তমানে সৌদি আরবের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। হামলায় যাত্রীদের সব লাগেজ হারিয়ে গেলে মক্কায় অবস্থানকালে মন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাঁদের একদিনের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয় এবং নতুন পোশাক উপহার দেওয়া হয়। এছাড়া টিকিট নিশ্চিতকরণসহ নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ওলামায়ে কেরামের পক্ষে জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের মহাসচিব আকরাম হোসাইনের নেতৃত্বে উমরাহ কাফেলার সদস্যরা বিপদের মুহূর্তে পাশে থাকা ও সার্বিক সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি হামলায় নিহত শিক্ষককে জান্নাতুল বাকিতে দাফনের জন্য পরিবার ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়। বিমানবন্দরে জামেয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি ফয়জুল্লাহ, জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ধর্মমন্ত্রীর সহযোগিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ওমরাহ যাত্রীরা বলেন- সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পর পরই ধর্মমন্ত্রী আমাদেরকে যেভাবে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন এর প্রতিদান আল্লাহ ছাড়া কেউ দেওয়ার সাধ্য নাই।
তবে আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই তিনি একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে ধর্মমন্ত্রী করেছেন। আমরা এমন ধর্মমন্ত্রী ই চেয়েছিলাম। আমাদের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর এবং দেশে ফিরিয়ে আনা ও বাসায় যেতে গাড়ির ব্যবস্থাসহ ওনি আমাদের রাষ্ট্রীয় অতিথির মর্যাদা দিয়েছেন।