মিঃ সমাজী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ঢাকা মহানগরের মেট্রোপলিটন পাবলিক প্রসিকিউটর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদায় বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রসিকিউশন উপদেষ্টা (স্পেশাল প্রসিকিউটরিয়াল এডভাউজার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ২০১১ সালে ইউএনডিপি-এর অধীনে ফৌজদারি কার্যবিধি সিআরপিসি বিষয়ে জাতীয় পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। সম্প্রতি ইউএস এমব্যাসি প্রকাশিত মানি লন্ডারিং বিষয়ক বেঞ্চ বুকের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।
অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন আইনবিষয়ক সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আইন পেশার দক্ষতা উন্নয়ন, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা এবং বিচারিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অবদান রেখে আসছেন। ২০০৮ সালে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত ডিজিটাল তদন্তবিষয়ক নির্বাহী সেমিনার এবং ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ফৌজদারি তদন্তবিষয়ক সেমিনারে তিনি অংশগ্রহণ করেন। ২০১১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আয়োজিত সাক্ষ্য আইনবিষয়ক সামরিক আইন কর্মশালা এবং বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত প্রস্তাবিত ভুক্তভোগী ও সাক্ষী সুরক্ষা আইনবিষয়ক সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। ২০২৩ সালের ১৭ মে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের বৈদেশিক প্রসিকিউশন উন্নয়ন, সহায়তা ও প্রশিক্ষণ কার্যালয় (ওপিডিএটি) আয়োজিত ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সাক্ষ্য আইন সংশোধনবিষয়ক গোলটেবিল কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। ২০২৫ সালে অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কার্যক্রম প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রসিকিউশন নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বৃদ্ধিবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক কর্মশালায় অংশগ্রহণের জন্যও মনোনীত হয়।
দীর্ঘ পেশাজীবনে অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজী বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, করপোরেট সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইনগত ও পেশাগত কার্যক্রমের সূত্রে সম্পৃক্ত থেকেছেন। তাঁর পেশাগত সম্পৃক্ততার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস, ঢাকা, সামিট গ্রুপ, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, বারিধারা কসমোপলিটন ক্লাব লিমিটেড, আপন জুয়েলার্স, আকিজ গ্রুপ, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ, এবি ব্যাংক পিএলসি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, লা মেরিডিয়ান ঢাকা, একুশে টেলিভিশন, ডেসটিনি গ্রুপ, হল-মার্ক গ্রুপ, এবিসি গ্রুপ, ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপ, জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড, এশিয়ান সিটি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, প্রিয়াঙ্কা গ্রুপ, ইস্পাহানি গ্রুপ, লিজেন্ড ক্লাব, উত্তরা, ফখরুদ্দিন গ্রুপ, মেট্রো হোমস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড এবং মিগনাস গ্রুপ। এ সকল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে পেশাগত কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা তাঁর আইনজীবনকে করপোরেট, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক আইনগত পরিসরেও বিস্তৃত করেছে।
দীর্ঘ পেশাগত জীবনে অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজী দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ, আলোচিত ও জটিল ফৌজদারি মামলা, দুর্নীতি ও অর্থ পাচার-সংক্রান্ত বিচারিক কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-সংশ্লিষ্ট মামলা এবং করপোরেট বিরোধের সঙ্গে পেশাগতভাবে সম্পৃক্ত থেকেছেন। তাঁর পেশাগত কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উল্লেখযোগ্য মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে পদ্মা সেতু-সংশ্লিষ্ট মামলা, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ও সামিট গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা, গ্রামীণফোনের ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিরোধ, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা, মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলা, ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলা, সালমান শাহ হত্যা মামলা, সাগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলা, সাভার ও মুন্সীগঞ্জের আলোচিত হত্যা মামলা, আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যা মামলা। এ ছাড়া বারিধারা কসমোপলিটন ক্লাব লিমিটেড, পারটেক্স গ্রুপ, এবিসি গ্রুপ, ইউনিলিভার বাংলাদেশ, ডেসটিনি ও হল-মার্ক গ্রুপের দুর্নীতির মামলা, পি. কে. হালদার-সংশ্লিষ্ট মামলা, আপন জুয়েলার্স-সংশ্লিষ্ট দুদকের মামলা, ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্ট অর্থ পাচারের মামলা, বনানীর এফআর টাওয়ার-সংশ্লিষ্ট দুদকের মামলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কার্যক্রমেও তাঁর পেশাগত সম্পৃক্ততা রয়েছে।
আজ ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং তারিখে এডভোকেট এহসানুল হক সমাজীর পেশাগত জীবনের চার দশক পূর্তি উপলক্ষ্যে তাহার মিরপুর ডিওএইচএসস্থ বাসভবনে দিনব্যাপী নানান আয়োজনে দিনটি উদযাপন করা হয়। বিশেষত সমাজী এন্ড এসোসিয়েট এর ওয়েবসাইট www.shomaji-legal.com আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ভোধন করা হয়।