কুমিল্লা প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ভিরাল্লা সাদত খান উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো ১৯৬০ সালে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ৬৩ বছরেও বিদ্যালয়টিতে স্থায়ীভাবে নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। প্রতি বছর ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি এলেই শিক্ষার্থীদের অনেকটা দূরে গিয়ে সড়কের পাশের একটি শহীদ মিনারে গিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্ক সিটির চিকিৎসক ও শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন, ইউএসএ শাখার সভাপতি ডা. ফেরদৌস খন্দকার দেবিদ্বারের সন্তান। এরই মধ্যে নিজের উপজেলাকে আলোকিত করতে নানামুখী কল্যাণকর কাজ করে যাচ্ছেন ডা. ফেরদৌস। এসব কাজের জন্য বেশ প্রসংশিত হয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ভিরাল্লা সাদত খান উচ্চ বিদ্যালয়েয় পক্ষ থেকে ওই প্রতিষ্ঠানে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন ইউএসএ শাখার সভাপতি ডা. ফেরদৌসের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ডা. ফেরদৌসও এগিয়ে এলেন। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শহীদ মিনার উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি।
ডা. ফেরদৌসের উদ্যোগ ও শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন ইউএসএ শাখার সৌজন্যে নির্মিত শহীদ মিনারটি গত বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। ভাষার মাসে নিজ প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার পেয়ে আনন্দিত শিক্ষার্থীরাও। বৃহস্পতিবার ওই বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার উদ্বোধন উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ডা. ফেরদৌস খন্দকার। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আহামদ খান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন সরকার। অনুষ্ঠানের বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক, সকল শিক্ষার্থী, তাঁদের অভিভাবক ও স্থানীয় বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।
রবিবার বিকেলে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন, ইউএসএ শাখার সভাপতি ডা. ফেরদৌস খন্দকার বলেন, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। তবে এই ভাষা কতোটা ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া, সেটা নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। দেবিদ্বার আমার নিজের জন্মভূমি। ভিরাল্লা সাদত খান উচ্চ বিদ্যালয়টি যুগের পর যুগ ধরে ওই অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে গেছে। এ বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী দেশকে আলোকিত করেছে।
ডা. ফেরদৌস আরো বলেন, দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়টিতে একটি শহীন মিনার নির্মিত হয়নি। এই বিষয়টি জানতে পেরে নিজের কাছে মনে হয়েছে- ভাষার মাসে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি শহীদ মিনার উপহার দিতে পারা আমাদের জন্যও সৌভাগ্যের ব্যাপার। তাই বিদ্যালয়টিতে শহীদ মিনার নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম ফাউন্ডেশনের সৌজন্যে। সবচেয়ে ভালো লাগছে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির শুরুতেই শহীন মিনারটির উদ্বোধন নিজের হাতেই করতে পেরেছি। শিক্ষার্থীরা যখন মিনারটিতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে- তখন তারা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানতে আগ্রহী হবে। এভাবেই নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভাষা আন্দোলন আর স্বাধীনতার ইতিহাস ছড়িয়ে পড়বে বলে আমার বিশ্বাস।