ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ধসের শঙ্কা কারণে রাঙামাটির ঐতিহ্যবাহী ‘সাজেক ভ্যালি’ পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। যার কারণে গত মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লা থেকে সাজেক ভ্যালি যাওয়া কুমিল্লার দশ যুবক তিন ধরে আটকে পড়েছেন ।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে মাইকিং করে সাজেক থেকে ফেরা পর্যটকদের নিজ নিজ হোটেলে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে সাজেক আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার ।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের জুডিসিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী সই করা এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদ্যমান আবহাওয়ায় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ০৭ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যা হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলাধীন বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালী পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। এসময়ে বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালীর সকল পর্যটন কেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে।
এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে এ জেলায় চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এবং জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে মাচালং, বাঘাইহাট, দিঘীনালা এই তিন জায়গায় রাস্তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন দৈনিক আমার দেশ কুমিল্লা প্রতিনিধি এম হাসান।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে টানা বর্ষন হচ্ছে রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে । পর্যটকরা রিসোর্টের ভেতরে অবস্থান করছেন। বুধবার সকালে ফেরার কথা থাকলেও ভারি বর্ষণ ও পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে যাওয়ায় গাড়ি চলাচল বন্ধ।আজ বৃহস্পতিবারেও ফিরতে পারিনি।
ঢাকা থেকে সাজেক ভ্যালিতে সস্ত্রীক ঘুরতে এসেছেন ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, হঠাৎ ভারী বর্ষণে বিপদে পড়ে গেলাম । বৃহস্পতিবার ফেরার কথা ছিলো। সড়কে পানি উঠায় আটকে গেলাম।
সাজেক রুইলুই পাড়া রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এভাবে বৃষ্টি হলে পর্যটকরা বের হতে পারবে না। এবছর একটানা দুই দিন ভারি বর্ষণ হচ্ছে । তার কারণেই পর্যটকরা আটকে গেছে ।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। যাদের জরুরী প্রয়োজন তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আমরা আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করে রেখেছি।