কান্দিরপাড়, কুমিল্লা | | বঙ্গাব্দ

শিক্ষকের ঘরে আইনস্টাইন জর্জ ওয়াশিংটনের আড্ডা

আমোদ.

প্রকাশিত : Jul 28, 2026 ইং
আমোদ.
ad728
কাঁঠ,বাঁশ,লোহা,সোনা,পাথর,মাটি বা বালুর ভাস্কর্যের কথা শুনেছেন| চকে ভাস্কর্য গড়ে তোলার কথা নিশ্চয়ই শোনেননি| চককে কেউ খড়িমাটিও বলেন| শিক্ষকরা ব্ল্যাক বোর্ডে ও শিশুরা শ্লেটে লেখার কাজে ব্যবহার করতেন| ধরার সুবিধার জন্য একটু বাকী থাকতে সেটি ফেলে দেয়া হতো| সেই ফেলে দেওয়া চক দিয়ে বাংলাদেশে প্রথম ক্ষুদ্র ভাস্কর্য তৈরি করেছেন কুমিল্লার এক তরুণ শিক্ষক| সেই চকের মাথায় হাসছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নজরুল ইসলামসহ দুনিয়াজোড়া হাজারো খ্যাতিমান মানুষ| কাঁচের ঘরে ঠাঁই হয়েছে তাদের| মনে হয় সেখানে তারা আড্ডায় মেতেছেন| শিক্ষকের নাম সামিউল আলম জাহেদ| বাড়ি কুমিল্লা শহরতলীর চাঁনপুরে| বাবা ব্যবসায়ী শহীদুল আলম| মা গৃহিণী রোকসানা বেগম| চার ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি ৩য়| সেই ভাস্কর্য দিয়ে তিনি অর্জন করেছেন জাতীয় পুরস্কারও|

সূত্র জানায়,জাহেদ ২০০২ সালে কুমিল্লা হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন| ২০০৪ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি, একই কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন| ২০১৭ সালে ঢাকা আর্ট কলেজ থেকে বিএফএ ডিগ্রি এবং ২০১৯ সালে এমএফএ (প্রিন্টিং এন্ড ড্রয়িং) পাস করেন| বর্তমানে চারুকলার শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ ও কুমিল্লা আর্ট কলেজে|
আর্ট কলেজে গিয়ে দেখা যায়, কলেজের কক্ষে তার চকের যত কারবার| প্রথমে কম্পাসের কাঁটা আর সুঁই দিয়ে কাজ করলেও এখন বিশেষ ধরনের কাঁটা সংগ্রহ করেছেন| চকের মাথায় বিভিন্ন চিত্রকর্ম ফুটিয়ে তোলেন| চকের মাথায় শেরে বাংলা, মাদার তেরেসা, লিবার্টি স্ট্যাচু, আইনস্টাইন,জর্জ ওয়াশিংটন, রবীন্দ্র ও নজরুলসহ অনেক মনিষীর দেখা মেলে| সেখানে তার পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীরা চকের গায়ে ভাস্কর্য তৈরি দেখছেন|


জাহেদ জানান,ফেলে দেওয়া চকে তিনি সুপারম্যান, স্পাইডারম্যান,ব্যাটম্যানদের ফুটিয়ে তুলতেন| এরপর নতুন চকে শুরু করেন| বন্ধুদের অনেকে আড়ালে মুখ টিপে অবজ্ঞার হাসি হেসেছেন| চকে আবার ভাস্কর্য! সাথে তিনি রঙ দিয়ে ছবি আঁকেন| গিটারে সুর তোলেন| তবে পরেরগুলো নিয়ে নিকটজনরা বাহবা দিতেন| কিন্তু তার মন পড়ে থাকে চকে| টেবিলের ড্রয়ারে রাখা চকের ভাস্কর্য গুলো নেড়েচেড়ে দেখেন| কিছু পোকা খাদ্য বানিয়েছে| কিছু ভেঙে গিয়েছে| কিন্তু তার মন ভাঙতে পারে না| ভাবতে থাকেন কিভাবে তার কাজ গুলোকে মজবুত করা যায়| চকে ভাস্কর্য ফুটিয়ে তোলার পর তিনি সেগুলো গামে ডুবিয়ে নেন| শুকানোর পর সেগুলো শক্ত হয়ে যায়|
২০০০ সাল থেকে ২০১৭ সাল| নিজের বানানো ভাস্কর্যগুলো ড্রয়ারে ফেলে রেখেছিলেন জাহেদ| চারুকলার শিক্ষার্থী বন্ধু শাকের এসব ভাস্কর্য দেখে তাকে জানান এসব মিনিয়েচার ভাস্কর্য| এগুলো নিয়ে প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া সম্ভব| ১৭ বছর পর জাহেদ বুঝতে পারেন তিনি যা তৈরি করেছেন সেগুলো একটি শিল্প| ৭২টি মিনিয়েচার ভাস্কর্য নিয়ে অংশ নেন জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনীতে, জিতে নেন পুরস্কার|

জাহেদ আরো বলেন, চক এখন অনেকে চেনেন না| হারিয়ে যাওয়া শিক্ষা পণ্যকে বাঁচিয়ে রাখবে এই ভাস্কর্য| তিনি এই শিল্প নিয়ে যেতে চান বহুদূর| চকের গায়ে ফুটিয়ে তুলছেন বাঙালির আড়াই হাজার বছরের ইতিহাস| সে লক্ষে কাজ শুরু করেছেন| তিনি এই কাজ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চান|
শিক্ষার্থী আকলিমা আক্তার ও জান্নাতুল মাওয়া বলেন, তিনি শুধু সৃজনশীল শিল্পীই শুধু নন,তিনি মেধাবী মানুষও| ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় তিনি দেশ সেরা হয়েছিলেন| জটিল একটা বিষয় স্যার সহজ করে বুঝিয়ে দেন|


জাতীয় শিল্প নির্দেশক উত্তম গুহ বলেন, জাহেদ সৃজনশীল ছেলে| তার শিল্পী মন রয়েছে| তার কাজে আমি মুগ্ধ| সে আগামীতে আরো ভালো করবে বলে আমরা আশা করি|


নিউজটি আপডেট করেছেন : আমোদ.

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য

আমোদ.

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আকাশ টিভি ২৪ ডট কম
সকল কারিগরী সহযোগিতায় SoftioLab