সাল ১৯৭১, দেশে চলছে যুদ্ধের দামামা,
সংঘর্ষ ক্রমে শহর থেকে গ্রাম গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে,
লোকজন জড়ো হয়ে কান পাতে রেডিওতে, পাড়া-মহল্লা জুড়ে।
উজ্জীবিত হয়ে শোনে উচ্চ কন্ঠের সেই ভাষণ,
মানুষের প্রাণে জাগতে থাকে আশার সঞ্চারণ।
মায়ের কন্ঠে এই কথাগুলোই উচ্চারিত হয়; নিজের ভাষায় তার,
মন্ত্রমুগ্ধের মতোই শুনি কান পেতে; গল্প স্বাধীনতার।
বাবা মায়ের উৎকন্ঠা মেয়েদের নিয়ে উঠতি বয়সের,
খবর শুনে যদি, মিলিটারীদের এলাকায় আগমনের।
কলিজার পানি শুকিয়ে যায় গ্রামের মানুষের, ভয়ে,
তারা নাকি অতি হিংস্র! কানাকানি করে সবে।
সাক্ষাত যমদূত, গুলি করে মারে জ্যান্ত মানুষ,
মা বোনদের সততা আব্রুতে উড়ায় রঙিন ফানুস।
তখন বর্ষার শেষ দিক,
ধানের নৌকাগুলো বন্দরে পাড়ি জমায়,
নানা রকমের খবর; হাটে বাজারে বাতাসে ভেসে বেড়ায়।
জীবনের নিশ্চয়তা নেই বৃদ্ধ যুবক, নারী পুরুষ কারোরই,
তাইতো বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন নিজের গ্রামকে;
ছোট ব্রিজ কালভার্টগুলো ভেঙ্গে নিজেরাই।
আগামীকাল মিলিটারীর হানা পড়বে এই গ্রামে;
সবাই সতর্ক, যুবতী মেয়ে, নব বধূদের সরিয়ে নিতে হবে।
ভোর বেলায় ধানের নৌকায় গাদাগাদি করে উঠে বসে;
নৌকা ছাড়ে অন্য কোন গ্রামের উদ্দেশ্যে।
নৌপথে মিলিটারীদের নৌকা দেখা যায় মুখোমুখি;
সবাই ভয়ে জড়োসড়ো!
বিচক্ষণ মাঝি, ধানের নৌকা বলে তাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয় অন্যত্র।
বেঁচে যায় মা বোনদের সম্মান, নিরাপদ হয় কত জীবন।
মনে হলে সেদিনের কথা; আজও মায়ের গায়ে জাগে শিহরণ ।